কুষ্টিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছড়ানো অপপ্রচারের অবসান: প্রেম ও পরিণয়ে আবদ্ধ হয়েছিলেন দুই শিক্ষক
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়নে একটি স্থানীয় আল উসওয়াতুল হাসানা শারমিন সুলতানা মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত "ধর্ষণের" অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। মূল ঘটনা অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো ধরনের জোর-জুলুম নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারস্পরিক পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের টান ধরেই ওই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের একটি আল উসওয়াতুল হাসানা শারমিন সুলতানা মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মোঃ সায়েম বিল্লাহ-এর বিরুদ্ধে একই মাদ্রাসা ও এতিমখানার সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ নুরবানু-কে ধর্ষণের একটি কাল্পনিক ও মিথ্যা প্রচার চালানো হয়। এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সচেতন সমাজ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। তবে অনুসন্ধানে উঠে আসে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
প্রকৃতপক্ষে, মোঃ সায়েম বিল্লাহ এবং মোছাঃ নুরবানু দীর্ঘদিন ধরে একে অপরকে জানতেন এবং তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় ও সম্মানজনক প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ০৫/১০/২০২৫ তারিখে তারা ধর্মীয় ও আইনি রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তারা অত্যন্ত সুখী দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছেন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, দুই শিক্ষকের এই সফল পরিণয় ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কিছু কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটিকে ভিন্ন খাতে মোড় দেওয়ার চেষ্টা করে। কোনো ধরনের সত্যতা যাচাই না করেই একটি পবিত্র বৈবাহিক সম্পর্ককে "ধর্ষণ" বলে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ সায়েম বিল্লাহ বলেন,
"আমাদের সম্পর্কটি অত্যন্ত পবিত্র এবং আমরা গত বছরের অক্টোবর মাসে পারিবারিকভাবে বিবাহ করেছি। যারা না জেনে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের নোংরা মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন, তারা মূলত আমাদের এবং আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।"
সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ নুরবানুও একই সুর মিলিয়ে বলেন যে, তাদের বিয়ে সম্পূর্ণ নিজেদের পছন্দে ও সম্মতিতে হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তিনি এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এবং অভিভাবকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, শিক্ষকরা সমাজের দর্পণ। না জেনে এভাবে সামাজিক মাধ্যমে কোনো শিক্ষকের চরিত্র হনন করা অত্যন্ত নিন্দনীয় অপরাধ। স্থানীয় সচেতন মহল এই অপপ্রচারের পেছনে থাকা মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।