০৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ভুয়া ভ্যাট কর্মকর্তা কারাগারে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩১৫ Time View

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভ্যাট কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপর এক ঘটনায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের এক সিপাহীকে আটকের পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে বোয়ালমারী গরুহাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বপন ঘোষ (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্যাট কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টাকা নেয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত পরিচালনা করেন বোয়ালমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বপন ঘোষ বোয়ালমারী পৌর বাজারের একটি প্রেসে গিয়ে নিজেকে ফরিদপুর ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি ভ্যাট বকেয়ার কথা বলে টাকা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও তিনি দুই দফায় ৮ হাজার টাকা আদায় করেছিলেন। পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ জানান, “ভুয়া পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজারের ব্যবসায়ী প্রান্ত সাহা জানান, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন তার দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। না দিলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। ব্যবসায়ী প্রান্ত সাহা তাকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার প্রস্তাব দিলে মামুন ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে মামুনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।

তবে সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সরকারি কাজে বোয়ালমারীতে গিয়েছিলাম। ব্যবসায়ী নিজেই আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন, যা আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। পরে আমাকে অপদস্ত করা হয় এবং পুলিশ এসে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমার পরিচয় নিশ্চিত করে আমাকে উদ্ধার করে। আমি কোনো ঘুষ নেইনি।”

ব্যাবসায়ীদের দাবি, সাজাপ্রাপ্ত ভুয়া কর্মকর্তা স্বপন ঘোষ মাঝে মাঝে নিজেকে মুস্তাইন শাহ মামুন হিসেবেও পরিচয় দিতেন এবং নিজেকে বড় কর্মকর্তা দাবি করতেন। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসাজস রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে ব্যাবসায়ীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক সাহিত্য নিকেতনের ঈদ পুনর্মিলনী ও মোড়ক উন্মোচন।

ফরিদপুরে ভুয়া ভ্যাট কর্মকর্তা কারাগারে

Update Time : ০১:৪১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভ্যাট কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপর এক ঘটনায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের এক সিপাহীকে আটকের পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে বোয়ালমারী গরুহাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বপন ঘোষ (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্যাট কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টাকা নেয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত পরিচালনা করেন বোয়ালমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বপন ঘোষ বোয়ালমারী পৌর বাজারের একটি প্রেসে গিয়ে নিজেকে ফরিদপুর ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি ভ্যাট বকেয়ার কথা বলে টাকা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও তিনি দুই দফায় ৮ হাজার টাকা আদায় করেছিলেন। পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ জানান, “ভুয়া পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজারের ব্যবসায়ী প্রান্ত সাহা জানান, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন তার দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। না দিলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। ব্যবসায়ী প্রান্ত সাহা তাকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার প্রস্তাব দিলে মামুন ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে মামুনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।

তবে সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সরকারি কাজে বোয়ালমারীতে গিয়েছিলাম। ব্যবসায়ী নিজেই আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন, যা আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। পরে আমাকে অপদস্ত করা হয় এবং পুলিশ এসে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমার পরিচয় নিশ্চিত করে আমাকে উদ্ধার করে। আমি কোনো ঘুষ নেইনি।”

ব্যাবসায়ীদের দাবি, সাজাপ্রাপ্ত ভুয়া কর্মকর্তা স্বপন ঘোষ মাঝে মাঝে নিজেকে মুস্তাইন শাহ মামুন হিসেবেও পরিচয় দিতেন এবং নিজেকে বড় কর্মকর্তা দাবি করতেন। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসাজস রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে ব্যাবসায়ীরা।